
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া কোন দেশ বা জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। যে শিক্ষার মাধ্যমে দেশ বা জাতি উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করে, সে শিক্ষা অবশ্যই বাস্তবতার সাথে সমন্বিত জ্ঞান সমৃদ্ধ হতে হবে। আমরা জানি, শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যক্তির কাঙ্খিত আচরণিক পরিবর্তন ঘটানো। কোন ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেও অশিক্ষিত থাকবে, যদি তার আচরণিক পরিবর্তন না ঘটে। বিদ্যা ও বুদ্ধি শব্দদ্বয় একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। কোন ব্যক্তি বিদ্বান হয়েও বুদ্ধিমান নাও হতে পারে। কাজেই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুশিক্ষিত হবে।
বর্তমান যুগে শিক্ষা শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাস্তব জীবনে সে জ্ঞান কতটা প্রয়োগ করতে পারছি, সেটিই হচ্ছে আসল শিক্ষা। একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ শুধু নিজের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, তিনি সমাজ ও জাতির উন্নয়নেও অবদান রাখেন। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের এমন কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষিত সমাজ গঠনের কল্পনা করা যায় না। একজন ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যায় পারদর্শী হয়, কিন্তু তার চরিত্র গঠন না হয়, তবে সে কখনোই সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারবে না। সুশিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ সৎ, মানবিক ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা আবশ্যক। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ব্যবসা ও ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও শেখাতে হবে। কারণ, একজন শিক্ষার্থী কেবলমাত্র পরীক্ষা পাশ করলেই যথেষ্ট নয়; তাকে জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও উদ্ভাবনমূলক শিক্ষাব্যবস্থা।
সবশেষে বলা যায়, একটি জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো মানসম্পন্ন ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা। সরকার, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এখন থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও মানবিক করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।